অবশেষে সেই কাঙ্খিত মুহুর্ত

অবশেষে সেই কাঙ্খিত মুহুর্ত। গত তিন মাসে একটু একটু করে খোলনলচে বদলে ফেলার কাজ শুরু করেছিলাম পুলিশ লাইনের। পুরাতন ডাইনিং, পরিত্যক্ত অস্ত্রাগারের লোহার গরাদ সরিয়ে অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তন, টাইলস, জানালার থাই গ্লাস সহ সিভিল ওয়ার্কস করাতেই এক মাস লেগে গেল।তারপর নিজের মত করে ইন্টেরিয়র ডিজাইন খোজা, এক্ষেত্রে খুব কাজে লাগে pinterest, সেখানে ঘাটাঘাটি করে ক্যাফেটেরিয়ার ডিজাইন বের করে ফেললাম( পুরাতন অস্ত্রাগারটাকেই ক্যাফেটেরিয়া করব ঠিক করেছিলাম), ক্যানটিন বলতে সাধারনক পুলিশ লাইনে চা বিস্কিট, হালকা খাবার, ছোটখাট প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করা হয়, আমার ইচ্ছা ছিল ফো্রস চা কফি খেতে খেতে গল্প করবে, মাঝেমধ্যে বইয়ের পাতায় চোখ বোলাব্, এজন্য ছোট একটা লাইব্রেরীও থাকবে, পাশাপাশি সাউন্ড সিটেমে গান, প্রয়োজনে ছেলেমেয়ের জন্মদিন বা নিজের জন্মদিনে ছোটখাট পার্টিও করত্ পারবে , সেভাবেই নিজের মত করে ডিজাইন করলাম, চাইছিলাম আনকমন কিছু লাইট, ফিলামেন্ট টাইপ পছন্দ করলাম, কাছাকাছি ধরনের লাইট পেয়েও গেলাম ঢাকায়, এরপর ডাইনিংয়ের কাজ, সমস্যা হল অনেক বড় স্পেস, সিলিং করতেই খরচ হবে আমার বাজেটের দ্বিগুন, অনেক জায়গা জুড়ে কাজ করলেও মনে হয় খালি খালি, আবার সেই সিভিল ওয়া্রকস, ৭-৮ বছরের পুরাতন গ্রীলওয়ালা জানালা অপসারন করে থাই গ্লাস, সবচেয়ে দরকারী অথচ দৃষ্টিকটু ছিল খাবার নেয়ার কাউন্টার, যে কোন গ্রাম্য হোটেলের মত মলিন, সারাদিন ডিউটি করে ফোর্স যখন খাবার মুখে দেয় তখন স্বাদ বলতে আর কিছু থাকেনা শুধু খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবার কারনে। ওদেরকে কিভাবে স্বাস্থ্যকর , গরম খাবার দিব সেটা ভাবতে তেজগাওয়ে কয়েকটা দোকানে খোজ করে মাপজোক দিয়ে অর্ডার করে ফেললাম ঝকঝকে ফুড ওয়ারমার। আমার রুটিন হয়ে গেল প্রতিদিন সকালে পুলিশ লাইনে গিয়েই মেসের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন, আস্তে আস্তে রুপ পেতে লাগল সিলিংয়ের অংশ, এবার বিপত্তি বাধল রঙ নিয়ে , বার্জার এশিয়ান পেইন্ট দুই কোন্পানীর সাথে দুইদফা আলোচনা করে ইলিউশনের কয়েকটা ডিজাইন ঠিক করলাম, ব্যবহার করার পর মনে হল, রুমে আলো কমে গেছে, সাদা হলে যে উজ্জলতা ছড়ায় লালে তা অনুপস্থিত, ট্রাই করলাম হলুদ, এবার আলো ফুটল, ঠিক করলাম সবকিছুতেই হলুদ ব্যবহার করব, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে উদ্বোধন করব ভেবে রেখেছিলাম, কাজগুলো শেষ করার পরও দেখি এটা হয়নি সেটা হয়নি। আইজিপি স্যার সবসময় বলেন পুলিশে চাকরীর প্রাইড ও প্যাশন থাকতে হবে, তিন সপ্তাহ আগে ঢাকায় মিটিংয়ে কথাগুলো আবার শুনে মাথায় গেথে গেল, ভাবলাম এমন কিছু করা দরকার যেটা দেখলেই আমার ফোর্সের মনে পরবে, পুলিশের প্যাশন ও প্রাইডের কথা, মনে মনে একটা ডিজাইন ঠিক করে তরুন প্রচ্ছদ শিল্পী Rahman Azad কে বললাম কষ্ট করে ডিজাইনটা করে দিতে, আমি জানি আজাদ প্রচন্ড ব্যস্ত, দুয়েকবার মনে করিয়ে দিতেই সে যা দাড় করালো তা অনবদ্য, এটাকে প্রিন্ট করলে চলবেনা , আমি চাই আকর্ষনীয় কিছু, ফেসবুকে ঘাটাঘাটি করে বের করে ফেললাম ঢাকা প্লাস্টিক এন্ড মেটাল , ইনটেরিয়েরের আইডিয়া আনার হলেও কাজগুলোর দায়িত্ব দিয়েছিলাম Nutan Rahman কে, তাকে বললাম ঢাকা গিয়ে কাজটা করিয়ে আনতে, মাঝেমাঝেই যা চাইছি তা বুঝতে ভুল করার কারনে প্রায়ই রাগ করেছি তার সাথে, ধৈর্ ধরে কাজ করে নির্ধারিত সময়েই শেষ করলেন। নবনির্মিত ক্যাফেটেরিয়া, সেলুন ও সংস্কারকৃত ফো্রসেস মেস এর উদ্বোধন করব ভেবেছিলাম গতকাল। সম্মানিত ডিআইজি Baten Mohammad স্যার রাজশাহী রেঞ্জের বিভাগীয় পরীক্ষা বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বে থাকায় সম্ভব হলনা, তাই একটু ধীরেই এগুচ্ছিলাম, সৌভাগ্যক্রমে স্যার পাবনায় আজ আসলেন একটা অফিসিয়াল প্রয়োজনে, ব্যস্ততার মাঝেও সময় দিতে সম্মত হওয়ায় আজকেই সেই শুভক্ষন। গত তিনমাস ধরে সিভিল ওয়ার্কস সংক্রান্তে নিরলস পরিশ্রম করেছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর মামুন, তাকে সহযোগিতা করেছে এএসপি Shawon Sharif, গতকাল আর আজ দায়িত্ব নিয়ে উদ্বোধন, প্রীতিভোজ সহ আরো অনেক কিছু সামলিয়েছে অতি পুলিশ সুপার Masud Alam ও Rokonuzzaman Sarker , বলতে গেলে গত তিন মাসই ব্যস্ত ছিল ইলেকট্রিশিয়ীন কনস্টবল আলআমীন ও প্লামবার কনস্টবল মোতালেব। আমার একটি স্বপ্ন পুরনে সারথী হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা। অশেষ কৃতজ্ঞতা সম্মানিত জিআইজি রাজশাহী রেঞ্জ জনাব আবদুল বাতেন, বিপিএম, পিপিএম ও বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহী বিভাগ হুমায়ুন কবীর মহোদয়ের প্রতি তাদের মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য, আজকের দিনটাকে আলোকিত করার জন্য।







সর্বশেষ সংবাদ
DIG Homepage