ঈশ্বরদী থানার চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ০৫ সদস্য আটক। ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ।

০১ এপ্রিল, ২০২৩

ঈশ্বরদী থানার চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ০৫ সদস্য আটক। ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ। ঘটনাঃ বাদী মোঃ রাকিবুল হাসান, পিতাঃ মোঃ রজব আলী, সাং- কলেজপাড়া মশুড়িয়াপাড়া, থানাঃ ঈশ্বরদী, জেলাঃ পাবনা একজন ব্যবসায়ী। বাদীর চাউল ও মুড়ি উৎপাদনের চাতাল মিল রহিয়াছে। গত ইং ২৩/০৩/২০২৩ তারিখে রাত্রী ০৪:৪০ ঘটিকার সময় ঈশ্বরদী থানাধীন জয়নগর পাঠশালা মোড় দাশুড়িয়া- রূপপুর হাইওয়ে রোড সংলগ্ন পূর্ব পার্শ্বে বাদীর চাতাল মিলে অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন ডাকাত হাতে হাসুয়া, লোহার রড সহ দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চাতালের নাইটগার্ড মোঃ ইউনুস প্রাং এর হাত পা ও মুখ বেধে বাধিয়া দূর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘঠন করে।পরবর্তীতে উক্ত ডাকাতির ঘটনায় ঈশ্বরদী থানার এফআইআর নং-৫৭, তারিখঃ ২৫ মার্চ ২০২৩ ইং ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড-১৮৬০ রুজু হয়। পাবনা জেলার মাননীয় পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আকবর আলী মুন্সী মহোদয়ের নির্দেশে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার এবং ঈশ্বরদী এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে অতিঃ পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোঃ মাসুদ আলম এর নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই(নিরস্ত্র) সুব্রত কুমার ঘোষ সহ পাবনা ডিবির এসআই(নিরস্ত্র) সাগর কুমার সাহা, এএসআই(নিরস্ত্র) মোঃ আমিনুর রহমান সহ একটি চৌকশ টিমের যৌথ অভিযানে খুলনা, বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া উক্ত ডাকাত চক্রের ০৫(পাঁচ) জন সদস্য সহ ডাকাতী হওয়া মালামাল এবং ডাকাতীর কাজে ব্যবহৃত ট্রাক উদ্ধার করা হয়। ধৃত আসামী ১. মোঃ শরিফুল ইসলাম(৩৭), পিতা-মোঃ জিয়াউল হক, গ্রামঃ জাড়িয়া বারুইডাঙ্গা, ০৪ নং ওয়ার্ড, লকপুর ইউপি, থানাঃ ফকিরহাট, জেলাঃ বাগেরহাট । আসামী ২. মোঃ বোরহান শেখ ওরফে বুরান (২৯), পিতাঃ মৃতঃ আমির আলী শেখ, গ্রামঃ জাড়িয়া বারুইডাঙ্গা, থানাঃ ফকিরহাট, জেলাঃ বাগেরহাট। আসামী ৩. মোঃ আশরাফুল শেখ ওরফে আসাদুল ওরফে ছোট (২২), পিতা- মৃত মাহাবুব শেখ ওরফে হাবিবুর, গ্রাম- লখপুর, থানাঃ ফকিরহাট, জেলাঃ বাগেরহাট। আসামী ৪. শিমুল শেখ ওরফে হৃদয় (২৪), পিতা-মৃত জাহাঙ্গীর শেখ, গ্রাম- জাড়িয়া মাইটকুমড়া, থানাঃ ফকিরহাট, জেলাঃ বাগেরহাট আসামী ৫. মোঃ কামাল শেখ ওরফে কামরান শেখ (২৭), পিতা-মোঃ হেলাল শেখ, গ্রাম- তালিমপুর, থানাঃ রূপসা, জেলাঃ খুলনা বর্তমান সাং- বর্তমান ঠিকানা- আব্দুল বারি এর বাড়ির ভাড়াটিয়া , স্ত্রী- মুন্নি বেগম ০৩ নং ওয়ার্ড , চালতাতলা, বাগেরহাট পৌরসভা, সদর মডেল থানা, জেলা- বাগেরহাট উপরোক্ত ডাকাতরা আন্তঃ জেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। এই ডাকাত দলের সদস্যরা যে কোন এলাকায় ডাকাতি সংঘঠনের পূর্বে উক্ত এলাকায় অবস্থান করে এলাকার গতিবিধি পর্যবেক্ষন করে ডাকাতী সংঘঠন করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে গাঁ ঢাকা দেয়। তথ্য এবং প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ এর সহায়তায় খুলনা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় ২ দিন ব্যাপি শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালনা করে দুর্ধর্ষ ডাকাত চক্রের সক্রিয় ০৫(পাঁচ) সদস্যকে নিম্নবর্নিত ডাকাতি হওয়া মালামাল সহ গ্রেফতার করা হয়। উক্ত ডাকাত দলের মুলহোতা মোঃ শরিফুল ইসলাম। উদ্ধারকৃত আলামতের বর্ণনাঃ ১. ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি হলুদ রংয়ের TATA 407 মডেলের ট্রাক, যাহার মুল্য ১৮,০০,০০০/-টাকা ২. একটি লাল রংয়ের Honda কোম্পানির জেনারেটর, যাহার মুল্য ৮৫,০০০/- টাকা । ৩. দুইটি ছাই রংয়ের MEGA কোম্পানির সিলার মেশিন মূল্য অনুমান ২০,০০০/= টাকা , ৪. একটি MEGA কোম্পানির ২০০ কেজির ওজন মাপা মেশিন মূল্য অনুমান ৮,০০০/- টাকা ৫. দুইটি পাটের বস্তায় রক্ষিত ৫০ কেজি করে মোট ১০০ কেজি চাউল মুল্য অনুমান ৬,০০০/- টাকা ৬. পাঁচটি প্লাস্টিকের বস্তার মধ্যে ৫০০ গ্রাম করে ১০০ প্যাকেট মুড়ি, মূল্য অনুমান ৩,৫০০/-টাকা ৭. একটি মটরসাইকেল, মুল্য অনুমান ৫০,০০০/- টাকা ৮. নগদ ৫,০০০/= পাঁচ হাজার টাকা ৯. তালা ভাঙ্গার কাজে ব্যবহৃত একটি লোহার রড ও হাসুয়া ১০. আসামীদের ব্যবহৃত ০৪ টি মোবাইল ফোন আসামীদের অপরাধ ইতিহাসঃ ১। আসামী মোঃ শরিফুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাই সহ মোট ৮ টি মামলার রয়েছে। ২। আসামী মোঃ বোরহান শেখ ওরফে বুরান এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় ছিনতাই, দস্যুতা,ডাকাতি সহ মোট ৬টি মামলার রয়েছে। ৩।আসামী মোঃ আশরাফুল শেখ ওরফে আসাদুল ওরফে ছোটএর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় ছিনতাই, দস্যুতা, ডাকাতি, হত্যা, মাদক সহ ৭টি মামলা রয়েছে। ৪।আসামী শিমুল শেখ ওরফে হৃদয় এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় হত্যা, ছিনতাই, দস্যুতা, ডাকাতি সহ ৪টি মামলা রয়েছে। ৫. আসামী মোঃ কামাল শেখ ওরফে কামরান শেখ এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় হত্যা, ছিনতাই, দস্যুতা, ডাকাতি সহ ৪টি মামলা রয়েছে।







সর্বশেষ সংবাদ